দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃষি গবেষণা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সংরক্ষণ।
ব্রাসিলিয়ার ‘আলভোরাদা প্রাসাদ’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভ্যর্থনা জানান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ১১৪টি ঘোড়ার সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
🔐 নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী চুক্তি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মধ্যে রয়েছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ গোপন তথ্য বিনিময়, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ ও রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা সহযোগিতায় একসাথে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন,
“আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং জিরো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতিতে বিশ্বাস করি।”
⚡ জ্বালানি ও শক্তি রূপান্তর
ব্রাজিলের বিশাল জৈবজ্বালানি (বায়োফুয়েল) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত যৌথভাবে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়াবে। বায়োইথানল ও বায়োডিজেল খাতে গবেষণা ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগের পথ সুগম হবে।
এই প্রসঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রী অ্যালেক্সান্দ্রে সিলভেইরা বলেন,
“ভারত ও ব্রাজিলের যৌথ উদ্যোগে ইথানল ব্যবহার বাড়িয়ে তেল নির্ভরতা কমানো সম্ভব।”
🌐 ডিজিটাল রূপান্তর ও উদ্ভাবন
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও সুপারকম্পিউটিং বিষয়ে একযোগে কাজ করবে দুই দেশ। প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াও তথ্য সুরক্ষা ও ৫জি/৬জি প্রযুক্তি উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
🌾 কৃষি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ
ভারতের আইসিএআর (ICAR) ও ব্রাজিলের EMBRAPA যৌথভাবে কৃষি গবেষণায় নতুন প্রকল্প চালু করবে। এছাড়াও, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সংক্রান্ত একচেটিয়া অধিকার সংরক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
📈 বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ও যৌথ উদ্যোগ
বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ আগামী পাঁচ বছরে তিন গুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রাজিলের বিমান নির্মাতা সংস্থা এমব্রেয়ারের (Embraer) সঙ্গে ভারতের যৌথ বিমান উৎপাদনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,
“ভারত–ব্রাজিল অংশীদারিত্ব শুধু দুই দেশের নয়, পুরো গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।”
📝 স্বাক্ষরিত মূল চুক্তিসমূহ (ছয়টি):
-
সন্ত্রাসবিরোধী ও অপরাধমূলক তথ্য বিনিময় চুক্তি
-
ডিজিটাল রূপান্তর ও উদীয়মান প্রযুক্তি চুক্তি
-
নবায়নযোগ্য শক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা
-
কৃষি গবেষণায় ICAR–EMBRAPA যৌথ কর্মসূচি
-
গোপন নথি ও তথ্য সুরক্ষা চুক্তি
-
বৌদ্ধিক সম্পত্তি সুরক্ষায় সমঝোতা স্মারক
📌 বিশেষ দৃষ্টিকোণ:
এই ঐতিহাসিক সফরকে বিশ্লেষকরা দক্ষিণ গোলার্ধের দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে কৌশলগত মৈত্রীর “নতুন অধ্যায়” হিসেবে অভিহিত করছেন।
তথ্যসূত্র:
.png)
.png)
0 মন্তব্যসমূহ