যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলো। যদিও শুল্কনীতি বাস্তবায়নের মূল হোতা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে তাঁর নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে।
শনিবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।”
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী ১১টি উন্নয়নশীল অর্থনীতির এই জোটে রয়েছে—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, এবং সম্প্রতি যুক্ত হওয়া দেশসমূহ, যেমন ইরান ও সৌদি আরব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুল্কনীতি নিয়ে একমত হলেও, ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে ব্রিকসের অভ্যন্তরে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তেহরান, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে আসছে, যেখানে জোটের অন্য সদস্যরা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিকসের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প সাময়িকভাবে নতুন শুল্ক আরোপ স্থগিত করলেও, আগস্টের ১ তারিখের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হলে ফের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
ব্রিকসের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম না নেওয়াকে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের প্রভাবাধীন এই জোট এখন ক্রমেই পশ্চিমা আধিপত্যের একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। তবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ফলে মতৈক্যে পৌঁছাতে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ দৃষ্টি ব্রাজিল:
ব্রিকসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ব্রাজিল এই শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য ভারসাম্য ও দক্ষিণ গোলার্ধের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উপর জোর দেয়। ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেন, “শুল্ক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

0 মন্তব্যসমূহ