ব্রাজিল বাংলা টিভি ডেস্ক:অটোয়া:-প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক
তারিখ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বিল সি-১২ পাস হলে ভিসা বাতিলে একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবে কানাডা সরকার — উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো

ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা ভিসা আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কানাডা সরকার গণহারে ভিসা বাতিলের পথে হাঁটছে। এ নিয়ে উদ্বেগে আছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এরই মধ্যে সরকার বিল সি-১২ নামে একটি নতুন প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছে, যা পাস হলে কানাডা সরকার গণহারে ভিসা বাতিলের একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবে।

এই সংক্রান্ত বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি কানাডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি নিউজের হাতে এসেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডার ইমিগ্রেশন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে।

এই গ্রুপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে — ভ্রমণ ও শিক্ষার্থী ভিসার জাল আবেদন শনাক্ত করা, বাতিল করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আবেদন প্রতিরোধে নতুন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ভারত ও বাংলাদেশ ‘চ্যালেঞ্জিং দেশ’

অভ্যন্তরীণ নথিতে ভারত ও বাংলাদেশকে ‘নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জিং দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, এই দুই দেশ থেকে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আবেদনের মধ্যে সন্দেহজনক ও জাল নথির পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

তবে প্রকাশ্যে কানাডার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী লেনা দিয়াব জানিয়েছেন, এই ক্ষমতা বাড়ানোর মূল কারণ হলো “মহামারি, যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা”—তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

সমালোচনায় মানবাধিকার সংগঠন

নতুন এই আইন নিয়ে কানাডার সুশীলসমাজের একাধিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মাইগ্র্যান্ট রাইটস নেটওয়ার্কসহ ৩০টির বেশি সংগঠন মনে করছে, এই বিল পাস হলে সরকার গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে, যা বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কানাডায় পড়াশোনার জন্য আবেদন করা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলতি বছরের আগস্টে জমা দেওয়া প্রতি চারটি আবেদনের মধ্যে তিনটিই বাতিল করেছে কানাডা সরকার — অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট আবেদন খারিজ হয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্টে এই হার ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ভারতীয় আবেদনকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯০০ থেকে কমে ৪ হাজার ৫১৫-এ নেমে এসেছে।

জাল নথি শনাক্তে নতুন উদ্যোগ

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কানাডা সরকার প্রায় ১,৫৫০টি জাল ভর্তি স্বীকৃতিপত্র (Letter of Acceptance) শনাক্ত করে। নতুন যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গত বছর আরও ১৪ হাজারের বেশি জাল নথি ধরা পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিটের সংখ্যা দ্বিতীয় দফায় সীমিত করেছে। কানাডা সরকার বলছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ভিসা জালিয়াতি ও অস্থায়ী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আনা।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বিল সি-১২ পাস হয়, তাহলে কানাডায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন এক কঠোর যুগের সূচনা হবে। বিশেষত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

একজন কানাডীয় অভিবাসন বিশেষজ্ঞ বলেন:

“এই বিল বাস্তবায়িত হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাজারো আবেদন একযোগে বাতিল করা হতে পারে—যা বৈধ আবেদনকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”


ক্যাপশন (অনলাইন সংস্করণের জন্য):
📸 টরন্টো বিমানবন্দরে কানাডায় প্রবেশের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। জাল ভিসা ও নথি জালিয়াতি রোধে কঠোর হচ্ছে সরকার।