ব্রাজিল বাংলা টিভি ডেস্ক:
✍ বিশেষ প্রতিনিধি | ব্রাসিলিয়া

ব্রাজিলে বিদেশিদের অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (Polícia Federal) নিশ্চিত করেছে— ভুয়া কাগজপত্র, ফেইক ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে সকল বিদেশি ভিসা বা রেসিডেন্স অনুমোদন পেয়েছেন, তাঁদের ওপর এখন চলছে গোপন নজরদারি অভিযান

সরকারের ভাষায়—

“Brasil não é terra de fraude”
(ব্রাজিল প্রতারণার জায়গা নয়)

এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে একাধিক অভিবাসন দপ্তর।


🔍 তদন্ত কোথায় শুরু হলো?

সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে, কিছু নাগরিক নথিপত্র জালিয়াতি করে স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা এমনকি রেসিডেন্স পারমিটও সংগ্রহ করেছেন। কয়েকটি জাল চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গড়ায়।

এখন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—
যেখানে প্রতারণার গন্ধ, সেখানেই বাতিলের হাতুড়ি।


⚖ কোন আইনে শাস্তি হতে পারে?

ব্রাজিলের শক্তিশালী মাইগ্রেশন আইন Lei nº 13.445/2017–এ রয়েছে সরাসরি নির্দেশনা:

🔸 আর্টিকেল 112 – রেসিডেন্স বাতিল

যদি বিদেশি “ভুয়া নথি, জাল তথ্য বা প্রতারণা” ব্যবহার করে সুবিধা নেয়,
রেসিডেন্স পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা যেতে পারে।

🔸 আর্টিকেল 106–110 – প্রশাসনিক শাস্তি

নিয়ম ভঙ্গের জন্য জরিমানা, ভিসা স্থগিত, এমনকি দেশে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত হতে পারে।

🔸 ব্রাজিলিয়ান পেনাল কোড – আর্টিকেল 232-A

অবৈধ অভিবাসনে সহায়তা, জাল তথ্য প্রদান বা ফেইক ডকুমেন্ট ব্যবহারের জন্য
২–৫ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

🔸 আর্টিকেল 54–58 – বহিষ্কার (Expulsão)

মিথ্যা তথ্য দিলে সরকার চাইলে বিদেশিকে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে;
তবে সিদ্ধান্তের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়।


🚨 সরকারের নজরদারি কেমন চলছে?

ব্রাজিলের সীমান্তে এবং ইমিগ্রেশন অফিসে শুরু হয়েছে ডকুমেন্ট স্ক্যানিং ও ডেটা ম্যাচিং।
সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে—
ভুয়া নথি ব্যবহার করে asylum বা ভিসা নেওয়ার চেষ্টার প্রবণতা বাড়ায় কর্তৃপক্ষ “বিশেষ নজরদারি অভিযান” চালাচ্ছে।

এর ফলে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যাদের কাগজপত্র সন্দেহজনক বা যাচাইকরণে মিল নেই।


🛑 ঝুঁকিতে কারা?

যারা—

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ফেইক করেছে

চাকরির কাগজপত্র বানিয়েছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভুয়া অ্যাডমিশন লেটার ব্যবহার করেছে

বা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভিসা নিয়েছে

তাঁদের সবার ভিসা বাতিল বা ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


📢 বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের মতে,
“ব্রাজিল এখন বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহ দিচ্ছে, কিন্তু জালিয়াতির বিরুদ্ধে শুন্য সহনশীলতা নীতি চলছে।”

তাঁদের পরামর্শ—
যাদের কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে, দ্রুত আইনগত পরামর্শ নিয়ে তথ্য সংশোধন করা উচিত।


📌 শেষ কথা

ব্রাজিল একদম পরিষ্কার করেছে—
➡ ভিসা নিতে প্রতারণা করলে রক্ষা নেই।
➡ যে কোন সময় রেসিডেন্স পারমিট বাতিল হতে পারে।
➡ আইনি জটিলতা ও বহিষ্কারের ঝুঁকিও রয়েছে।

অভিবাসীদের জন্য এটি এক ধরনের রেড অ্যালার্ট, আর স্বচ্ছ নথিপত্র ও বৈধ পথ ছাড়া ব্রাজিলে স্থায়ী হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব।