এই আইনটি এসেছে এক স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১৯০টি দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্রাজিলের জাতীয় কংগ্রেস দ্রুততার সঙ্গে আইনটি পাস করে, যা এখন লুলা সরকারের মাধ্যমে কার্যকর হলো।
কী আছে আইনে?
নতুন আইনের আওতায় ব্রাজিল সরকার এখন বহিঃবাণিজ্য পরিষদ (Camex)-এর মাধ্যমে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া যাবে যদি—
-
কোনো দেশ বা জোট ব্রাজিলের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি লঙ্ঘন করে;
-
ব্রাজিলের তুলনায় কঠোর পরিবেশগত শর্ত আরোপ করে;
-
ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া যেতে পারে:
-
আমদানি-রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা,
-
পূর্বে দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত করা,
-
বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রণ,
-
এমনকি মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত অধিকারেও বিধিনিষেধ।
আইনটি স্পষ্ট করে বলছে, প্রতিটি পদক্ষেপের মাত্রা ব্রাজিলের অর্থনীতির ওপর ঘটিত ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ, পাল্টা ব্যবস্থা "সমানতালে জবাব" নীতিতে নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর
তবে প্রতিরোধের পাশাপাশি আলোচনার পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নতুন আইনের অধীনে ব্রাজিল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই ধরনের শুল্ক বা বাধা কমাতে কাজ করবে।
নজরদারির দায়িত্ব Camex-এর
আইনটি কার্যকরের পর এটি Camex-এর ওপর দায়িত্ব দিচ্ছে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নেওয়া পদক্ষেপের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য। অর্থাৎ, এই আইনের আওতায় চালানো প্রতিটি কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের একটি কাঠামোগত মূল্যায়ন চলবে।
বিশ্ববাজারে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে ব্রাজিল যে শুধু মৌখিক প্রতিক্রিয়ায় থেমে থাকছে না, বরং কাঠামোগত প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই আইন তারই প্রমাণ। এটি লুলা সরকারের "কঠোর কিন্তু কূটনৈতিক" অবস্থানকে তুলে ধরছে—যেখানে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হচ্ছে, আবার আলোচনার দরজাও খোলা রাখা হচ্ছে।
এটি কৃষি ও শিল্প খাতকে আশ্বস্ত করবে এবং ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
0 মন্তব্যসমূহ