ইউনিয়ন পাবলিক ডিফেন্ডার জোয়াও শ্যাভেস বলেছেন যে ঘানার একজন ৩৯ বছর বয়সী অভিবাসী গত সপ্তাহে অজানা কারণে মারা গেছেন। তথ্য অনুসারে, তিনি স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে ৫ তারিখে ব্রাজিলে এসেছিলেন এবং ১১ তারিখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, দুই দিন পরে সে মারা গিয়েছিল।
কমপক্ষে ৬৬৬ জন ভিসা ছাড়া অভিবাসী গুয়ারুলহোস বিমানবন্দর (এসপি) দিয়ে ব্রাজিলে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে, শ্যাভেস বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য ব্রাজিল সরকার সোমবার থেকে এদেশে প্রবেশের নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। বিদেশীরা আমেরিকা এবং কানাডা যাওয়ার জন্য অবৈধভাবে ব্রাজিলকে ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেয়। আর তাই অবৈধ অভিবাসীরা যাতে ব্রাজিলকে অবৈধ ট্রানজিট রোড হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে সেই জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন ব্রাজিল সরকার।
শ্যাভস বলেছেন এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে -ব্রাজিলের এয়ারপোর্টে আটকা পড়া অভিবাসীদের কোন প্রকার গোসল করার সুযোগ নেই। সেই সাথে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার ফ্রি খাবার বন্টন করবে না এবং কোনরকম শীতবস্ত্র দিবেনা সেই ক্ষেত্রে শিশু এবং কিশোরদের কম্বল ছাড়া শীতের ঠান্ডা সহ্য করতে হবে। এবং নিজ খরচে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি কিনে খেতে হবে।
ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস (ডিপিইউ) বলছে অভিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে যতক্ষণ না ব্রাজিল সরকার এই অবৈধ অভিবাসীদের ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন সেই সময় পর্যন্ত তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। যেমন খাদ্য বস্ত্র এবং বাসস্থান। তারা আরো বলেছেন মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্রাজিল সরকারের উচিত অবৈধ অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে না দিয়ে একটি বিবৃত্তির মাধ্যমে তাদেরকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া ।
ব্রাজিলের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার থেকে, গুয়ারুলহোস বিমানবন্দরে বিদেশি ট্রানজিট যাত্রীদের অবশ্যই ব্রাজিলের ট্রানজিট ভিসা নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় ব্রাজিলের ভিসা ছাড়া এয়ারপোর্টে প্রবেশ করলে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে অবৈধ অভিবাসীরা উত্তর আমেরিকা যাওয়ার জন্য ব্রাজিলকে একটি অবৈধ ট্রানজি রোড হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে এশিয়ান অভিবাসীরা।
রয়টার্স এবং ফেডারেল পুলিশ কর্তৃপক্ষের দুটি প্রতিবেদন অনুসারে। ব্রাজিলে প্রবেশের জন্য এয়ারপোর্টে নেমে তারা রিফুজি আবেদন করে। রিফিউজিতে উল্লেখ করা হয় তাদের নিজ দেশে প্রাণ নাসের হুমকিতে রয়েছেন তারা। তাই ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। কিন্তু সবকিছু পর্যালোচনার পরে দেখা যায় এই সকল অভিবাসীরা ব্রাজিল থেকে অবৈধ পথে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে চলে যাচ্ছেন। ব্রাজিল সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ভিসা ছাড়া কোন যাত্রী ব্রাজিলে প্রবেশ বা থাকতে পারবেন না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন এই কারণে-ব্রাজিল সরকারের নতুন প্রস্তাবিত নিয়মগুলি ১৯৫১ ইউএন রিফিউজি কনভেনশনের লঙ্ঘন করে।
১৯৫১ ইউএন রিফিউজি কনভেনশন চুক্তিতে ব্রাজিল সরকার স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই সাথে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কোন দেশের অভিবাসী যদি তাদের দেশে আশ্রয় চায় , যদি আবেদন কারীর নিজ দেশে প্রাণ নাশের হুমকি থাকে তাহলে ব্রাজিল সরকার সেই সকল অভিবাসীদের ব্রাজিলে থাকার অনুমতি দিবেন।
পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস খুব শীঘ্রই ব্রাজিল সরকারের নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।
ব্রাজিলের বিচার সচিব জিন উয়েমা রয়টার্সকে বলেছেন নতুন নিয়মগুলি বিশেষভাবে সাও পাওলো বিমানবন্দরে প্রযোজ্য হবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে ব্রাজিলের নীতিতে কোনও পরিবর্তন হবে না।
আমাদের অভিবাসন নীতিতে, আমাদের শরণার্থী নীতিতে কোনও ঝুঁকি নেই,এই নতুন আইন শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য",এইকথা বলেছেন উয়েমা, যিনি জাতীয় শরণার্থী কমিটির (কোনারে) সভাপতিত্ব করেন। তিনি হাইলাইট করে বলেছেন "দুর্ভাগ্যবশত"ব্রাজিলকে ট্রানজিট রোড হিসেবে ব্যবহারকারী রিফিউজি আবেদনকারীরা একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের মাধ্যমে ব্রাজিলে আসেন এবং এই দেশ থেকে তাদের মাধ্যমে অবৈধভাবে আমেরিকা ও কানাডায় প্রবেশ করেন।
ব্রাজিল বাংলা টিভি/এসপি

0 মন্তব্যসমূহ