Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইরানে হামলার ফেরার পথে গাজায় অব্যবহৃত বোমা ফেলেছে ইসরায়েল: টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন



ব্রাজিল বাংলা টিভি ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ জুলাই ২০২৫

ইরানে হামলা চালিয়ে ফেরার পথে ব্যবহৃত না হওয়া বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র গাজায় নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোপন সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং তা গাজার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সূত্র জানিয়েছে, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের শুরুর দিক থেকেই পাইলটরা দেশে ফেরার পথে ব্যবহার না করা গোলাবারুদ গাজায় হামাসের অবস্থানে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। আইডিএফের শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডাররা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা করেন।

পরে ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকালীন সময়জুড়ে ওই কৌশলটি নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হয়। এই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’, যা ১৪ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

আইডিএফ দাবি করেছে, প্রথমদিকে এই উদ্যোগ তাৎক্ষণিক হলেও পরে তা ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ চালানো হয়। যদিও আন্তর্জাতিক মহল এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল তোমার বার সরাসরি অব্যবহৃত গোলাবারুদ ‘মোতায়েনের নির্দেশ’ দেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ের মধ্যে গাজায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষ করে, খাদ্য সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে হামলায় নিহত হন শতাধিক বেসামরিক নাগরিক। তবে সঠিকভাবে কতজন মানুষ এসব বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কাজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একাধিক সংগঠন এর তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি অঞ্চলে পরিচালিত সামরিক অভিযানের 'অব্যবহৃত অস্ত্র' পাশের ভূখণ্ডে প্রয়োগের ঘটনা সামরিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, তা মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ