ব্রাজিলের প্রধান প্রসিকিউটর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
প্রসিকিউটরের অভিযোগ অনুযায়ী, বলসোনারো তার উত্তরসূরি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত রাখার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে লুলাকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৬৯ বছর বয়সী বলসোনারো সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। এখন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে যে, এই অভিযোগ গ্রহণ করা হবে কিনা এবং বলসোনারোসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কিনা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলে রাজনৈতিক বিভক্তি আরও গভীর হয়েছে। বলসোনারোর সমালোচকরা এই অভিযোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাগারে থাকা উচিত। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি নির্দোষ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরায়েস এখন এই অভিযোগ পর্যালোচনা করবেন এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই, তবে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের আইনি বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে, বিচারপতি বিচারকাজ শুরুর পক্ষে রায় দেবেন, যা সম্ভবত এই বছরের শেষের দিকে শুরু হতে পারে।
সম্ভাব্য এ মামলার বিচার ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বলসোনারো ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না কারণ তিনি অতীতে ব্রাজিলের ভোটিং সিস্টেমকে জালিয়াতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মিথ্যা দাবি করেছিলেন, তবুও তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে রয়ে গেছেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তিনি এই বিচারকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
প্রধান প্রসিকিউটর পাওলো গোনেতের ২৭২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলসোনারো এবং ৩৩ জন অভিযুক্ত একটি অপরাধী গোষ্ঠী তৈরি করে লুলার সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছিল। তবে অভিযুক্তরা সবাই এই দাবি অস্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বলসোনারো ও তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ওয়াল্টার ব্রাগা নেত্তো এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

0 মন্তব্যসমূহ