ব্রাজিলের রাজনৈতিক তাপমাত্রা আবারও চড়তে শুরু করেছে। গেনিয়াল/কোয়েস্টের সর্বশেষ জরিপ জানাচ্ছে—২০২৬ সালের দৌড়ে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এখনও সামনের সারিতে, কিন্তু তাঁর ব্যবধান এমনভাবে গলে যাচ্ছে যেন গরম দুপুরে আইসক্রিম!
অক্টোবরে যে লিড ছিল আরামদায়ক, নভেম্বরের ডেটায় সেটি হঠাৎই ঝুঁকিপূর্ণ।
৬–৯ নভেম্বর পরিচালিত এই জরিপে ২,০০৪ জন অংশ নেন। ত্রুটির সীমা ±২।
রিওর রক্তক্ষয়ী অভিযান বদলে দিল রাজনৈতিক সমীকরণ
অক্টোবরের শেষে রিওতে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী মেগা-অপারেশনের পর ব্রাজিলজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে যেন এক নতুন ঝড় উঠেছে। আর সেই ঝড়ই ভোট-রাজনীতির আকাশে মেঘ জমিয়েছে।
জরিপের চিত্র বলছে—
৬৭% ব্রাজিলিয়ান অপারেশন সমর্থন করেন,
রিওতে সমর্থন ৬৪%,
তবে নিজ নিজ রাজ্যে এমন অভিযান চান না ৫৫% ভোটার।
লুলা অপারেশনটিকে “বিপর্যয়কর” বললেও ব্রাজিলের বেশিরভাগ মানুষ তাঁর সঙ্গে সুর মিলাচ্ছেন না—৫৭% অসম্মত।
অপরাধ দমনে কঠোরতার দাবি যেন প্রবল ঢেউয়ের মতো—
৮৮% মনে করেন শাস্তি খুবই হালকা, আর ৭৩% চান অপরাধী সংগঠনকে সরাসরি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে।
কংগ্রেসে উত্তাল অ্যান্টিফ্যাকশন বিল — ডেরিতের পদত্যাগ আলোড়ন আরও বাড়ালো
‘অ্যান্টিফ্যাকশন’ বিল নিয়ে কংগ্রেস এখন ফুটন্ত কড়াই। রিলেটরের দায়িত্ব নিতে গিয়ে গুইলহেরমে ডেরিতে সাও পাওলোর নিরাপত্তা সচিবের পদ ছেড়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত শুধু আইনপ্রণয়ন নয়, রাজনীতির ব্যাকস্টেজেও আলোড়ন তুলেছে।
বিলটিতে—
অপরাধী সংগঠনের শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব
“যোগ্যতাসম্পন্ন সংগঠন” নামে নতুন ধারা
উচ্চ-ঝুঁকির অপরাধে কঠোর বিচারপ্রক্রিয়া
তীব্র বিতর্কের ফলে ভোটাভুটি পিছিয়ে আগামী সপ্তাহে নেওয়া হচ্ছে।
লুলা সরকারের রেটিং: স্থির, তবে বাতাস একটু ঠাণ্ডা
জরিপ বলছে—সরকারি পারফরম্যান্স এখনো আগের মতই—
অসন্তোষ ৫০%,
সমর্থন ৪৭%,
অর্থাৎ হিসাবটা এখন মোটামুটি ‘হাফ-হাফ’।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লুলা শক্তিশালী থাকলেও দক্ষিণে তাঁর চিত্র ম্লান। নারীরা এখনো লুলার প্রতি বেশি সদয়।
দ্বিতীয় দফার নাটকীয় চিত্র: লিড আছে, কিন্তু হাঁটুর ওপর ভর করে
কোয়েস্ট যখন সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার হিসাব তুলে ধরে, সেখানে দেখা যায়—লুলা এগিয়ে আছেন ঠিকই, কিন্তু আগের মতো নয়। ব্যবধান এতটাই কমে গেছে যে ফলাফল এখন যেকোনো দিকে ঘুরতে পারে।
প্রধান মুখোমুখি হিসাব—
লুলা বনাম বোলসোনারো: ৪২% বনাম ৩৯%
(আগে ১০ পয়েন্ট লিড ছিল, এখন কার্যত ঘাড়ে নিশ্বাস!)
লুলা বনাম তার্সিসিও: ৪১% বনাম ৩৬%
লুলা বনাম সিইরো: ৩৮% বনাম ৩৩%
লুলা বনাম মিশেল বোলসোনারো: ৪৪% বনাম ৩৫%
লুলা বনাম রাটিনহো জুনিয়র: ৪০% বনাম ৩৫%
লুলা বনাম রেনান সান্তোস: ৪২% বনাম ২৫%
এদিকে, জনগণের মন চাইছে অন্য পথ—২৪% বলছেন লুলা বা বোলসোনারো কেউই নয়, নতুন নেতৃত্ব দরকার।
চমক আরও আছে—৫৯% চান না লুলা আবার প্রার্থী হোন, আর ৬৭% চান না বোলসোনারো।
রিওর গভর্নর ক্যাস্ট্রো—অপারেশন-ঝড়ের মাঝে আলোচিত মুখ
নিরাপত্তা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রিও, আর সেখানে উজ্জ্বলতম মুখ হয়ে উঠেছেন গভর্নর ক্লাউদিও ক্যাস্ট্রো। জরিপে ২৪% তাঁকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
সাও পাওলোর গভর্নর তার্সিসিও ১৩% নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে।
অন্য জরিপগুলোতে—
অ্যাটলাসইনটেলে ক্যাস্ট্রোর অনুমোদন ৪৭%,
ডাটাফোলহায় ৪০% ভালো/চমৎকার—২০২২-এর পর সর্বোচ্চ।
সমীকরণ পরিষ্কার: ২০২৬-এর পথ লুলার জন্য আর আগের মতো মসৃণ নয়
কোয়েস্টের এই জরিপ একটাই বার্তা দিচ্ছে—
২০২৬ সালের নির্বাচন এখন আর একধাপের দৌড় নয়; এটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন, আর পথটিও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

0 মন্তব্যসমূহ