পুতিন বুধবার রাশিয়ার পরমাণু কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, "রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পরমাণু শক্তিহীন দেশ আক্রমণ করলে তা এক বিষয়, তবে যদি সেই দেশ পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর সাহায্য পায়, তাহলে আমরা তা যৌথ আক্রমণ হিসেবে দেখব এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব।" এই বক্তব্য পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, বিশেষত ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে।
ইউক্রেন ইতিমধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি তারা রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের পরমাণু চুল্লিতে হামলার পরিকল্পনা করছে, যা প্রতিহত করা জরুরি।
পুতিন আরও জানান, ১৯৯৯ সালে বেলারুশের সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। বেলারুশে কোনো আক্রমণ হলে রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য হবে। বেলারুশ ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যদিও তারা সরাসরি সেনা পাঠায়নি, তবে রাশিয়ান সেনাদের জন্য রাস্তাসহ আকাশসীমা উন্মুক্ত রেখেছে।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র এতদিন দেশকে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছে। তবে বর্তমান যুদ্ধের কৌশল বদলে গেছে, এবং রাশিয়াকেও তার প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পুতিন বাধ্য হতে পারেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আক্রমণ হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ